বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০১৫

নওয়াপাড়া দারোগা বাড়ি, আলফাডাঙ্গা ফরিদপুর


ব্রিটিশ শাসনামলে আলফাডাঙ্গার নওয়াপাড়া গ্রামে নাছিরুদ্দিন নামে এক দারোগা ছিলেন।তিনি তৎকালীন সময়ে একজন উচ্চ পদস্ত সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন।উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তার খাতিরে এলাকার জমিদারদের সাথে পরিচিত ছিলেন।একদিন তার বাড়ির সামনের খাল দিয়ে ঐ সময়কার ক্ষমতাশালি নায়েব যাচ্ছিলেন।নায়েব যাওয়ার সময় দারোগা নাছিরুদ্দিনের সাথে দেখা করার জন্য তাকে ডাকলেন।নাছিরুদ্দিন নায়েবের সাথে দেখা করতে ইতস্তত বোধ করলেন কারন তার বাড়ি নায়েব সাহেবের জন্য অনুপযোগী ছিল।
তাই নায়েব সাহেব নাছিরুদ্দিনের জন্য একটি সুন্দর আবাসনের ব্যবস্থা করতে আর্থিক সহয়তা করেন এবং ঘোড়ায় চরে নাছিরউদ্দিনের বাড়ির চার পাশ দিয়ে ঘুরে এসে বলেন যে" যতটা জায়গা দিয়ে ঘুরে আসলাম এর সবটুকু জায়গা তোমার হলে হবে কিনা"? নাছির উদ্দিন বলেন জি হবে । এরপর নাছির উদ্দিন প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সুন্দর একটি বাড়ি নির্মান করেন। এর পর কয়েকবার এ অঞ্চলে নায়েব সাহেব আসলে নাছিরের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন ।পরবর্তী সময়ে নাছির দারোগার মৃত্যুর পর তার ছেলে খালেদ দারোগা এ বাড়িতে বসবাস করতেন ।পর্যায়ক্রমে খালেদ দারোগার ছেলে ইউনুস মিয়া এ বাড়ির উত্তরাধীকারি হন। চাকরি সূত্রে ইউনুস মিয়া তার পরিবারকে নিয়ে যশোরে চলে যান । ইউনুসের ছেলে মোঃ রকিবুল বাংলাদেশ ফুটবল লীগের জনপ্রিয় খেলোয়ার । বর্তমানে এ বাড়িতে প্রবেশের একটি গেট আছে ।বাড়ির চার পাশের প্রাচির আছে । এতে একটি প্রধান গেট আছে যা প্রায় ধ্বংশের পথে । এবং এর এক পাশে ছোট একটি গেট আছে । মুল গেটের দু পাশে দারোয়ানের দাড়াবার জায়গা ছিল । এখনো দারোয়ান থাকার জায়গাটি অক্ষত অবস্থায় আছে।বাড়িটির মুল ভবনটি ধ্বসে মাটিতে পরিনত হয়েছে ।বাড়িটির মূল ভবনটি ধ্বসে মাটিতে পরিনত হয়েছে।প্রাচীরের চার পাশে চারটি দরজা আছে।মূল গেটের দু পাশে লতা পাতায় ভরে গেছে।এখনো এই পরিবারটির অবদান স্বরুপ দাড়িয়ে আছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাদ্রাসা এবং অনেক প্রতিষ্ঠান।বাড়ির সামনে শান বাধানো পুকুর ঘাট ছিল।এখন তা আর নেই তবে পুকুরটির কিছু অংশ এখনো আছে।
প্রতিটা ক্ষমতাশালি ব্যাক্তি তার কৃতিস্বরুপ রেখে যান কিছু ভাল কর্ম,যেমন নাছিরুদ্দিনের কৃতিস্বরুপ এখনো দাড়িয়ে আছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
আমরা যদি সকলে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেই তাহলে হয়তবা আরো কিছুকাল টিকে থাকবে দারোগাবাড়ির ঐতিহ্য।

তথ্য সংগ্রহেঃরবিন,শুভংকর,ইমরুল

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন