আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রাম আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি আদর্শ গ্রামের নাম।একটি ফুল যেমন রুপ রং আর গন্ধে প্রকাশিত করে তার সৌন্দর্য।তেমনি কামারগ্রাম পরিপূর্ণ তার গুণে।
আজকের এই কামারগ্রাম কিন্তু একদিনে এই স্থানে আসে নি।যে মানুষটির হাত ধরে আজকের কামারগ্রাম গৌরবের সাথে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে সেই মানুষটির নাম কাঞ্চন মুন্সী।
এই মানুষটি শুধু স্বপ্ন দেখান নি স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দিতে যা যা করনীয় তিনি তা করেছেন।
মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ কষ্টকে নিজের করে নিয়ে প্রমান করেছেন মানুষ মানুষের জন্য।
এই মানব দরদী মহান পুরুষ ১৮৮০ সালের ৫ই মে আলফাডাঙ্গার কামারগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।২০ বছর বয়সে কাঞ্চন মুন্সী কাজের সন্ধানে পাড়ি জমান কলকাতা।
কলকাতার পোর্ট শিপিং কোম্পানিতে প্রথমত তিনি খালাসীর চাকুরী নেন।পরবর্তীতে তিনি এই পোর্ট শিপিং কোম্পানির ম্যানেজার হন। এই কোম্পানির আরো একটি শাখা এন্ডরোল কোম্পানি।এই এন্ডরোল কোম্পানিরও ম্যানেজার ছিলেন কাঞ্চন মুন্সী।
কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি বেতন পেতেন মাসিক ৫০০ টাকা।এন্ডরোল কোম্পানির ৯০০ ফ্লাট বোট ছিল ও ৪২ খানা তিনতলা জাহাজ ছিল।এই জাহাজ গুলির মালিক ছিলেন চার্লি কিংহাম এবং তার পুত্র কিংহাম এবং প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মিঃ হ্যাজমল।এই জাহাজ গুলি তখন বাংলা আসাম চলাচল করত। এসব জাহাজে কর্মরত ছিল ৩৫ হাজার শ্রমিক।এই ৩৫ হাজার শ্রমিকের বেতন নিতে হত কাঞ্চন মুন্সীর হাত থেকে।এখান থেকে বোঝা কতটা সৎ এবং নিষ্ঠাবান হলে এত বড় দায়িত্ব পাওয়া যায়।
ইংরেজ সাহেবদের সাথে যোগাযোগ ঠিকমতো করার জন্য ইংরেজি ভাষা জানাটা খুব দরকার ছিল কাঞ্চন মুন্সীর নিজের ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে শিখে নেন ইংরেজি ভাষা।
কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলেই তিনি হতে পেরেছিলেন ধনসম্পদের মালিক।এই ধন সম্পদের মালিক হয়ে মুন্সী সাহেব হয়ত নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন কিন্তু সেটা করেন নি তিনি।
সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেছেন গ্রামের মেহনতি খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে। যে অবদান আজও লক্ষ করা যায় কামারগ্রামে গেলে।
কামারগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়,কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী,ফজলার রহমান দাতব্য চিকিৎসালয়,মুন্সী বাড়ি মসজিদ,মাদ্রাসা,ঈদগাহ ময়দান,খেলার মাঠ,গোরস্থান জলদীঘি সহ অনেক কৃতি এই মহান মানুষের সৃষ্টি।
এখন কামারগ্রামকে উন্নয়নের আমরা মডেল বলছি এই মডেলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন কাঞ্চন মুন্সী, তৎকালীন সময়ে তার জাহাজ কোম্পানিতে নিজ এলাকার প্রায় ১ হাজার মানুষকে কে চাকুরী দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে।আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে তিনি যদি এই অবদান না রাখতেন তাহলে কামারগ্রাম হয়তবা বাংলাদেশের আর দশটা অবহেলিত গ্রামের মতই থেকে যেত।
বন্ধুরা চলুন কাঞ্চন মুন্সীর স্মৃতি বিজরিত মুন্সীর বাড়ি থেকে ঘুরে আসি.....
কামারগ্রাম মুন্সী বাড়ি
আলফাডাঙ্গা,ফরিদপুর
চির সবুজ একটি গ্রামের নাম কামারগ্রাম।এই কামার গ্রামেই ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে দাড়িয়ে আছে মুন্সী বাড়ি।এই বাড়ির প্রতিটি ইট-পাথর আর চুন সুড়কীর গাঁয়ে জড়িয়ে আছে কাঞ্চন মুন্সীর স্মৃতি।
নড়াইলের প্রভাবশালী জমিদার বনবিহারী বাবু এবং গিরিজাবালা সুন্দরীর নিকট থেকে তিনি জমিদারী পত্তনী পান।
বাংলা ১৩৩৭ সালে এক একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন এই কারুকর্যমণ্ডিত দ্বিতল ভবন।এই বাড়িটির মিস্ত্রী ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ।
মুন্সীবাড়ির আঙ্গিনায় রয়েছে মুন্সী বাড়ি মসজিদ ও পুকুর ঘাট।আর মুল ভবনের সাথে রয়েছে কাচারি ঘর।এই কাচারি ঘরে বসেই মুন্সী সাহেব এলাকার মানুষের সাথে
বৈঠক করতেন।শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
দ্বিতল ভবনের মুন্সী বাড়িটি উপরে চারটি ও নিচে তিনটি কক্ষ রয়েছে।প্রবেশের জন্য পাঁচটি প্রবেশপথ ও দুটি সিঁড়ি রয়েছে।মুন্সী বাড়ির চার দেওয়াল থেকে শুরু করে যে দিকেই চোখ যায় সেদিকেই ব্রিটিশ স্থাপত্য-কলার অপরূপ সৌন্দর্য নজর কাড়ে।
কাঞ্চন মুন্সী কলকাতাতেই বেশি থাকতেন। তাই তাঁর জমিদারী তাঁর নায়েব গোমস্তারাই বেশি দেখাশোনা করতেন।
বছরের বিভিন্ন সময়ে কলকাতা থেকে মধুমতি নদীর গোপালপুর ঘাটে এসে নামতেন তারপর পালকী অথবা ঘোড়া যোগে বাড়ি আসতেন।কাঞ্চন মুন্সী বাড়ি আসলে মুন্সী বাড়িতে জনসাধারণের ভিড় জমে যেত ।সবার অভাব অভিযোগ তিনি শুনতেন আর আর চেষ্টা করতেন যতটা সম্ভব সাহায্য করার।
কাঞ্চন মুন্সীর কলকাতা-----
কাজের সুবাদেই কাঞ্চন মুন্সীকে কোলকাতা থাকতে হতো।কলকাতার মিশন রোডে মুন হাউস নামে পরিচিত ৭ তলা ভবন রয়েছে এছাড়াও কলকাতাতে আরও অনেক বাড়ি ছিল তাঁর ।কলকাতার দম দম রোডের বাড়িতে তিনি স্থায়ী ভাবে বসবাস করতেন।এই বাড়িতে তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আসতেন তাঁর সাথে দেখা করতে।
বাংলাদেশের খুলনা ও ঢাকাতে কাঞ্চন মুন্সীর বাড়ি রয়েছে।ঢাকার শ্রেষ্ঠ বাড়ি “রুপলাল হাউস” তিনি কিনেছিলেন।পরবর্তীতে বাড়িটি তাঁর মেয়েকে দান করে দেন ।
এই মহান মানুষটি ১৯৪৮ সালে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেন। কাঞ্চন মুন্সীর শেষ ইচ্ছা ছিল কামারগ্রামে একটি থানা প্রতিষ্ঠা করবেন।এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি ঢাকা যান কিন্তু লক্ষ্য বাস্তবায়নের আগেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।ঢাকার রুপলাল হাউসে অবস্থানরত অবস্থায় ১৯৫০ সালের ৪ঠা জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর পর তাঁকে বিমান যোগে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায় শত শত মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কলকাতার গোবরডাঙ্গা গোরস্থানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।
কাঞ্চন মুন্সীর মতো সৎ ধর্মপ্রাণ মানুষ হয়ত আর ফিরে আসবেন না কামারগ্রামের মাটিতে।কিন্তু তাঁর সৃষ্ট অবদানের মাঝে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বর্তমানে কাঞ্চন মুন্সীর নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন” এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতি বছর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের সাথে জড়িত সবাইকে আমাদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন এজন্য যে কাঞ্চন মুন্সী কে স্মরণীয় করে রাখতে আপনারা এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
পরিশেষে বলতে চাই কাঞ্চন মুন্সীর আদর্শকে আমরা যদি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে কাঞ্চন মুন্সীর স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতে পারি তাহলেই তাঁর প্রতি হবে আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন।
তথ্য সংগ্রহে-শুভঙ্কর ও রেজয়ান
তথ্য সূত্র- আব্জু মোল্লা,আব্দুর জব্বার মোল্লা
কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী
খান আসাদুজ্জামান টুনুর আলফাডাঙ্গা উপজেলার ইতিহাস বই।
(এই লেখাটির কোন শব্দ বা তথ্যে কোন ধরণের ভুল চোখে পড়লে বা নতুন কোন তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে অবশ্যই জানাবেন কারণ আমরা চাই কাঞ্চন মুন্সী সম্পর্কিত এই লেখাটি তথ্যসমৃদ্ধ ,নির্ভুল ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। আমরা কাঞ্চন মুন্সীর উপর তথ্যচিত্র নির্মাণ করে কাঞ্চন মুন্সীকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই আপনাদের সকলের সহযোগিতা পেলেই সম্ভব হবে এই তথ্যচিত্র নির্মাণ)
Shuvongkar Shuvo
Admin of Alfadanga page
আজকের এই কামারগ্রাম কিন্তু একদিনে এই স্থানে আসে নি।যে মানুষটির হাত ধরে আজকের কামারগ্রাম গৌরবের সাথে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে সেই মানুষটির নাম কাঞ্চন মুন্সী।
এই মানুষটি শুধু স্বপ্ন দেখান নি স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দিতে যা যা করনীয় তিনি তা করেছেন।
মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ কষ্টকে নিজের করে নিয়ে প্রমান করেছেন মানুষ মানুষের জন্য।
এই মানব দরদী মহান পুরুষ ১৮৮০ সালের ৫ই মে আলফাডাঙ্গার কামারগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।২০ বছর বয়সে কাঞ্চন মুন্সী কাজের সন্ধানে পাড়ি জমান কলকাতা।
কলকাতার পোর্ট শিপিং কোম্পানিতে প্রথমত তিনি খালাসীর চাকুরী নেন।পরবর্তীতে তিনি এই পোর্ট শিপিং কোম্পানির ম্যানেজার হন। এই কোম্পানির আরো একটি শাখা এন্ডরোল কোম্পানি।এই এন্ডরোল কোম্পানিরও ম্যানেজার ছিলেন কাঞ্চন মুন্সী।
কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি বেতন পেতেন মাসিক ৫০০ টাকা।এন্ডরোল কোম্পানির ৯০০ ফ্লাট বোট ছিল ও ৪২ খানা তিনতলা জাহাজ ছিল।এই জাহাজ গুলির মালিক ছিলেন চার্লি কিংহাম এবং তার পুত্র কিংহাম এবং প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মিঃ হ্যাজমল।এই জাহাজ গুলি তখন বাংলা আসাম চলাচল করত। এসব জাহাজে কর্মরত ছিল ৩৫ হাজার শ্রমিক।এই ৩৫ হাজার শ্রমিকের বেতন নিতে হত কাঞ্চন মুন্সীর হাত থেকে।এখান থেকে বোঝা কতটা সৎ এবং নিষ্ঠাবান হলে এত বড় দায়িত্ব পাওয়া যায়।
ইংরেজ সাহেবদের সাথে যোগাযোগ ঠিকমতো করার জন্য ইংরেজি ভাষা জানাটা খুব দরকার ছিল কাঞ্চন মুন্সীর নিজের ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে শিখে নেন ইংরেজি ভাষা।
কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলেই তিনি হতে পেরেছিলেন ধনসম্পদের মালিক।এই ধন সম্পদের মালিক হয়ে মুন্সী সাহেব হয়ত নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন কিন্তু সেটা করেন নি তিনি।
সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেছেন গ্রামের মেহনতি খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে। যে অবদান আজও লক্ষ করা যায় কামারগ্রামে গেলে।
কামারগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়,কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী,ফজলার রহমান দাতব্য চিকিৎসালয়,মুন্সী বাড়ি মসজিদ,মাদ্রাসা,ঈদগাহ ময়দান,খেলার মাঠ,গোরস্থান জলদীঘি সহ অনেক কৃতি এই মহান মানুষের সৃষ্টি।
এখন কামারগ্রামকে উন্নয়নের আমরা মডেল বলছি এই মডেলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন কাঞ্চন মুন্সী, তৎকালীন সময়ে তার জাহাজ কোম্পানিতে নিজ এলাকার প্রায় ১ হাজার মানুষকে কে চাকুরী দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে।আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে তিনি যদি এই অবদান না রাখতেন তাহলে কামারগ্রাম হয়তবা বাংলাদেশের আর দশটা অবহেলিত গ্রামের মতই থেকে যেত।
বন্ধুরা চলুন কাঞ্চন মুন্সীর স্মৃতি বিজরিত মুন্সীর বাড়ি থেকে ঘুরে আসি.....
কামারগ্রাম মুন্সী বাড়ি
আলফাডাঙ্গা,ফরিদপুর
চির সবুজ একটি গ্রামের নাম কামারগ্রাম।এই কামার গ্রামেই ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে দাড়িয়ে আছে মুন্সী বাড়ি।এই বাড়ির প্রতিটি ইট-পাথর আর চুন সুড়কীর গাঁয়ে জড়িয়ে আছে কাঞ্চন মুন্সীর স্মৃতি।
নড়াইলের প্রভাবশালী জমিদার বনবিহারী বাবু এবং গিরিজাবালা সুন্দরীর নিকট থেকে তিনি জমিদারী পত্তনী পান।
বাংলা ১৩৩৭ সালে এক একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন এই কারুকর্যমণ্ডিত দ্বিতল ভবন।এই বাড়িটির মিস্ত্রী ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ।
মুন্সীবাড়ির আঙ্গিনায় রয়েছে মুন্সী বাড়ি মসজিদ ও পুকুর ঘাট।আর মুল ভবনের সাথে রয়েছে কাচারি ঘর।এই কাচারি ঘরে বসেই মুন্সী সাহেব এলাকার মানুষের সাথে
বৈঠক করতেন।শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
দ্বিতল ভবনের মুন্সী বাড়িটি উপরে চারটি ও নিচে তিনটি কক্ষ রয়েছে।প্রবেশের জন্য পাঁচটি প্রবেশপথ ও দুটি সিঁড়ি রয়েছে।মুন্সী বাড়ির চার দেওয়াল থেকে শুরু করে যে দিকেই চোখ যায় সেদিকেই ব্রিটিশ স্থাপত্য-কলার অপরূপ সৌন্দর্য নজর কাড়ে।
কাঞ্চন মুন্সী কলকাতাতেই বেশি থাকতেন। তাই তাঁর জমিদারী তাঁর নায়েব গোমস্তারাই বেশি দেখাশোনা করতেন।
বছরের বিভিন্ন সময়ে কলকাতা থেকে মধুমতি নদীর গোপালপুর ঘাটে এসে নামতেন তারপর পালকী অথবা ঘোড়া যোগে বাড়ি আসতেন।কাঞ্চন মুন্সী বাড়ি আসলে মুন্সী বাড়িতে জনসাধারণের ভিড় জমে যেত ।সবার অভাব অভিযোগ তিনি শুনতেন আর আর চেষ্টা করতেন যতটা সম্ভব সাহায্য করার।
কাঞ্চন মুন্সীর কলকাতা-----
কাজের সুবাদেই কাঞ্চন মুন্সীকে কোলকাতা থাকতে হতো।কলকাতার মিশন রোডে মুন হাউস নামে পরিচিত ৭ তলা ভবন রয়েছে এছাড়াও কলকাতাতে আরও অনেক বাড়ি ছিল তাঁর ।কলকাতার দম দম রোডের বাড়িতে তিনি স্থায়ী ভাবে বসবাস করতেন।এই বাড়িতে তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আসতেন তাঁর সাথে দেখা করতে।
বাংলাদেশের খুলনা ও ঢাকাতে কাঞ্চন মুন্সীর বাড়ি রয়েছে।ঢাকার শ্রেষ্ঠ বাড়ি “রুপলাল হাউস” তিনি কিনেছিলেন।পরবর্তীতে বাড়িটি তাঁর মেয়েকে দান করে দেন ।
এই মহান মানুষটি ১৯৪৮ সালে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেন। কাঞ্চন মুন্সীর শেষ ইচ্ছা ছিল কামারগ্রামে একটি থানা প্রতিষ্ঠা করবেন।এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি ঢাকা যান কিন্তু লক্ষ্য বাস্তবায়নের আগেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।ঢাকার রুপলাল হাউসে অবস্থানরত অবস্থায় ১৯৫০ সালের ৪ঠা জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর পর তাঁকে বিমান যোগে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায় শত শত মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কলকাতার গোবরডাঙ্গা গোরস্থানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।
কাঞ্চন মুন্সীর মতো সৎ ধর্মপ্রাণ মানুষ হয়ত আর ফিরে আসবেন না কামারগ্রামের মাটিতে।কিন্তু তাঁর সৃষ্ট অবদানের মাঝে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বর্তমানে কাঞ্চন মুন্সীর নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন” এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতি বছর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের সাথে জড়িত সবাইকে আমাদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন এজন্য যে কাঞ্চন মুন্সী কে স্মরণীয় করে রাখতে আপনারা এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
পরিশেষে বলতে চাই কাঞ্চন মুন্সীর আদর্শকে আমরা যদি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে কাঞ্চন মুন্সীর স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতে পারি তাহলেই তাঁর প্রতি হবে আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন।
তথ্য সংগ্রহে-শুভঙ্কর ও রেজয়ান
তথ্য সূত্র- আব্জু মোল্লা,আব্দুর জব্বার মোল্লা
কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী
খান আসাদুজ্জামান টুনুর আলফাডাঙ্গা উপজেলার ইতিহাস বই।
(এই লেখাটির কোন শব্দ বা তথ্যে কোন ধরণের ভুল চোখে পড়লে বা নতুন কোন তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে অবশ্যই জানাবেন কারণ আমরা চাই কাঞ্চন মুন্সী সম্পর্কিত এই লেখাটি তথ্যসমৃদ্ধ ,নির্ভুল ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। আমরা কাঞ্চন মুন্সীর উপর তথ্যচিত্র নির্মাণ করে কাঞ্চন মুন্সীকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই আপনাদের সকলের সহযোগিতা পেলেই সম্ভব হবে এই তথ্যচিত্র নির্মাণ)
Shuvongkar Shuvo
Admin of Alfadanga page

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন