বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৫

সঙ্গীত গুরু তারাপদ দাশ


আজ আলফাডাঙ্গা পেজে এমন একজন মানুষকে উপস্থাপন করব যিনি সারাজীবন অন্তরালে থেকে আমাদের মাঝে বপন করেছেন সঙ্গীতের স্বরলিপি।সুর আর তালের মন্ত্রে দিক্ষিত করেছেন বাংলাদেশের অনেক প্রতিভাবান শিল্পী যাদের কণ্ঠের গান আমাদের প্রাণ। 
তিনি?
সঙ্গীত গুরু তারাপদ দাশ।

সঙ্গীত গুরু তারাপদ দাশ আলফাডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন একটি সাধারন পরিবারে।ছোট বেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি ছিল তার বিশেষ আগ্রহ তাইত মাত্র ১৩ বছর বয়সে পাড়ি জমান ভারতে।সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে একটি সঙ্গীত স্কুলে টানা আট বছর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উপর দক্ষতা অর্জন করেন।

তৎকালীন সময়ে গ্রাম বা শহরের অন্যতম প্রধান বিনোদন মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। যাত্রা পালার তখন অনেক মর্যাদা ছিল। তারাপদ দাশ নিউ বাসন্তী অপেরা ও গণেশ অপেরার মতো বিখ্যাত সব যাত্রা দলে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে কর্ম জীবন শুরু করেন।বাংলাদেশের খ্যাতিমান অভিনেতা প্রয়াত অমল বোস এই নিউ বাসন্তী অপেরার সাথে যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে যখন “যাত্রা” মাধ্যম টিতে ভাটা পড়ে তখন গ্রামে এসে সঙ্গীত শিক্ষক হিসাবে শিক্ষা দান শুরু করেন।পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনেও গান পরিবেশন করেছেন।

আলফাডাঙ্গা,বোয়ালমারী,কাশিয়ানী,ভাটিয়াপাড়া,কুষ্টিয়া,কুমারখালি বালিয়াকান্দি সহ বিভিন্ন স্থানে তিনি সঙ্গীত শিক্ষকতা করেছেন।বালিয়াকান্দি শিল্পকলা একাডেমীতে তিনি প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন।
এসব যায়গায় শিক্ষকতার কারণে তারাপদ স্যারের নিকট থেকে বর্তমান সময়কার অনেক প্রতিভাবান সঙ্গীত শিল্পীদের সঙ্গীতের হাতে খড়ি নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ বর্তমান সময়কার সঙ্গীত শিল্পী ন্যান্সি তার বাবার কর্মসূত্রে ছোটবেলায় আলফাডাঙ্গায় পড়াশুনা করেছেন।ন্যান্সির তারাপদ স্যারের নিকট থেকেই সঙ্গীতের হাতেখড়ি হয়।টিভিতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ন্যান্সি স্মৃতিচারণ করেছেন গুরু তারাপদ দাশকে।
এছাড়াও আলফাডাঙ্গার ডাঃ সুকুমার কুণ্ডু,খুলনা বেতারের শিল্পী রুপা সাহা,কাশিয়ানীর জগলুল হায়দার শাহীন সহ অনেক নাম না জানা শিল্পী ছড়িয়ে রয়েছেন সারা বাংলাদেশ জুড়ে।

এই মানুষটি সারাজীবন বিলিয়েছেন সুরের পুস্প
জীবনের রং অতি সাধারনে রাঙালেও সঙ্গীত জীবনের রঙ বিন্দুমাত্র ফ্যাঁকাসে হতে দেন নি।
আজ তারাপদ স্যার আমাদের মাঝে নেই তারপরেও তিনি আছেন তার হাতে গড়া শিল্পীদের সুর-সঙ্গীতের ঝংকারে।
তিনি থাকবেন গানের ভেলায়......
সকাল বেলায় তাঁর কোন ছাত্র বা ছাত্রী যখন “ভীম পলশ্রী” রাগের উপর কোন সঙ্গীত রেওয়াজ করেন হয়ত তিনি শুনতে পান ওপাড়ে বসেই......


তথ্য ও ছবি সংগ্রহে –
সাজ্জাদ সাজু,শুভংকর পাল,সুজন দাশ(তারাপদ স্যারের বড় ছেলে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন