নীল.........
দু অক্ষরের এই বিষয়টি আমরা জামা কাপড় উজ্জ্বল করার জন্য ব্যবহার করলেও আজ থেকে ২০০ বছর আগে আমাদের আলফাডাঙ্গার মানুষের জীবনে মোটেও উজ্জ্বল ছিল না এই নীলের রং ।কারণ এই নীল কে কেন্দ্র করেই আমাদের কৃষকদের অনেক নির্যাতন সইতে হয়েছে,অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে...... ঠিক এরকম একটি সংগ্রাম হয়েছিল বাজড়া নীল কুঠিতে.........
দু অক্ষরের এই বিষয়টি আমরা জামা কাপড় উজ্জ্বল করার জন্য ব্যবহার করলেও আজ থেকে ২০০ বছর আগে আমাদের আলফাডাঙ্গার মানুষের জীবনে মোটেও উজ্জ্বল ছিল না এই নীলের রং ।কারণ এই নীল কে কেন্দ্র করেই আমাদের কৃষকদের অনেক নির্যাতন সইতে হয়েছে,অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে...... ঠিক এরকম একটি সংগ্রাম হয়েছিল বাজড়া নীল কুঠিতে.........
মরহুম শিক্ষক জনাব অলিয়ার রহমান স্যারের মতে, বাজড়া গ্রামের পূর্ব নাম ছিল বাজুনদিয়া। এক ধরণের ফল বাতাসে পেকে নিচে পড়লে ঝুন ঝুন করে শব্দ হত বলে এই গ্রামের নামকরন করা হয়েছিল বাজুনদিয়া।পরবর্তীতে বাজুনদিয়া রূপান্তরিত হয়ে হয়ে যায় বাজড়া।নীলকর এলেন ক্যাম্পবেল ডানলপ সাহেব মীরগঞ্জ নীলকুঠী স্থাপনের আগেই এই বাজড়া গ্রামে নীলকুঠি স্থাপন করেন।এই ডানলপ বাজড়া,পানাইল,গোপালপুর সহ অত্র এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।এই ডানলপের নির্যাতনে এলাকার মানুষ এক সময় প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।বাজড়ার অদূরে কূলধর গ্রামের এক গৃহবধূকে ডানলপ বাজড়া নীলকুঠিতে নিয়ে আসে।এমনিতে ডানলপ কৃষকদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করাতো তারপর আবার কৃষকের সম্মানের উপর হাত দিয়েছে। তো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কৃষকেরা একত্রিত হয়ে বাজড়া নীলকুঠি আক্রমন করে।
জানা যায় জাহের খাঁ নামক এক বাক্তির রামদায়ের আঘাতে এই বাজড়া নীলকুঠিতে ১৮৪৮ সালের ২৫ অক্টোবর ডানলপ নিহত হন। এই জাহের খাঁ এর বাড়ি পানাইল নাকি গোপালপুর এ বিষয়ে দ্বিমত আছে।এই আক্রমনে ডানলপের সাথে ডানলপের ত্যাজী ঘোড়াও নিহত হয়। কোন কারণ বসত ঐদিন ডানলপের পাইক পেয়াদারা সংখ্যায় কম ছিল। তাছাড়া পাইক পেয়াদার সংখ্যা বেশি থেকেও লাভ হত না কারন বাংলার কৃষকেরা সংখ্যায় যেমন বেশি ছিল তেমনি তাদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র। তাইতো ইংরেজদের বন্দুকের গুলির আওয়াজকেও বাঙালি হার মানিয়েছিল।তবে ক্ষমা চাইলে হয়ত তিনি পরিত্রাণ পেতে পারতেন কিন্তু তা না করে তিনি বন্ধুক হাতে তেড়ে আসেন। ডানলপের মৃত্যুর পর যশোর থেকে ইংরেজদের বিশেষ বাহিনী এসে ডানলপের লাশ মীরগঞ্জে ডানলপের ছেলের সমাধির পাশে সমাধিস্থ করে রেখে যায়।এখনো মীরগঞ্জে এই সমাধির কিছু অংশের ধ্বংসাবশেষ টিকে আছে।
ইংরেজ বাহিনী কিছুদিন ডানলপ হত্যাকাণ্ড নিয়ে উঠে পরে লাগলেও দুর্গম এলাকা বলে তারা খুব বেশি সুবিধা পায় নি ।আর নারী অপহরণের মত একটা ঘৃণিত বিষয়ের সাথে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ডানলপ সাহেব জড়িত থাকার কারনে প্রশাসনও অতটা পদক্ষেপ নেয় নি বলে ধারনা করা হয় না হলে এত বড় একজন ইংরেজ নীলকরকে হত্যার অপরাধে বাঙ্গালীকে সইতে হত না জানি আরও কত অত্যাচার।
জানা যায় জাহের খাঁ নামক এক বাক্তির রামদায়ের আঘাতে এই বাজড়া নীলকুঠিতে ১৮৪৮ সালের ২৫ অক্টোবর ডানলপ নিহত হন। এই জাহের খাঁ এর বাড়ি পানাইল নাকি গোপালপুর এ বিষয়ে দ্বিমত আছে।এই আক্রমনে ডানলপের সাথে ডানলপের ত্যাজী ঘোড়াও নিহত হয়। কোন কারণ বসত ঐদিন ডানলপের পাইক পেয়াদারা সংখ্যায় কম ছিল। তাছাড়া পাইক পেয়াদার সংখ্যা বেশি থেকেও লাভ হত না কারন বাংলার কৃষকেরা সংখ্যায় যেমন বেশি ছিল তেমনি তাদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র। তাইতো ইংরেজদের বন্দুকের গুলির আওয়াজকেও বাঙালি হার মানিয়েছিল।তবে ক্ষমা চাইলে হয়ত তিনি পরিত্রাণ পেতে পারতেন কিন্তু তা না করে তিনি বন্ধুক হাতে তেড়ে আসেন। ডানলপের মৃত্যুর পর যশোর থেকে ইংরেজদের বিশেষ বাহিনী এসে ডানলপের লাশ মীরগঞ্জে ডানলপের ছেলের সমাধির পাশে সমাধিস্থ করে রেখে যায়।এখনো মীরগঞ্জে এই সমাধির কিছু অংশের ধ্বংসাবশেষ টিকে আছে।
ইংরেজ বাহিনী কিছুদিন ডানলপ হত্যাকাণ্ড নিয়ে উঠে পরে লাগলেও দুর্গম এলাকা বলে তারা খুব বেশি সুবিধা পায় নি ।আর নারী অপহরণের মত একটা ঘৃণিত বিষয়ের সাথে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ডানলপ সাহেব জড়িত থাকার কারনে প্রশাসনও অতটা পদক্ষেপ নেয় নি বলে ধারনা করা হয় না হলে এত বড় একজন ইংরেজ নীলকরকে হত্যার অপরাধে বাঙ্গালীকে সইতে হত না জানি আরও কত অত্যাচার।
লেখক- ------------------------------ SK Shahadat Hossain
ছবি সংগ্রহ ও সম্পাদনায় Shuvongkar

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন